বাংলাদেশ, বুধবার, ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২১

শিরোনাম

আ’লীগের কাউন্সিলর প্রার্থী মঞ্জু’র বিএনপি কানেকশন : নৌকা ডুবির আশংকা


প্রকাশের সময় :২৪ জানুয়ারি, ২০২১ ৩:২৪ : অপরাহ্ণ

নগরীর ১০নং কাট্টলী ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগ মনোনিত কাউন্সিলর প্রার্থী ও সদ্য সাবেক প্যানেল মেয়র ড. নেছার উদ্দিন আহমেদ মঞ্জুর মিষ্টি কুমড়া প্রতিকের নির্বাচনী প্রচার প্রচারণায় তার পাশে ছায়াসঙ্গী হয়ে আছে কাট্টলী ওয়ার্ড বিএনপি’র সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি আলহাজ্ব শওকত আলী চৌধুরী৷ ফলে কাট্টলী ওয়ার্ডের ভোটারদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে৷ স্থানীয় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের একাংশ কাউন্সিলর প্রার্থী মঞ্জু নির্বাচনী বৈতরনী পার হতে গোপনে বিএনপি’র মেয়র প্রার্থীর ধানের শীষের সাথে আঁতাত গড়ে তুলেছে বলে প্রকাশ্য অভিযোগ তুলেছে৷

কাট্টলী ওয়ার্ড বিএনপি নেতা শওকত আলী কি আওয়ামী লীগে যোগ দিয়েছেন নাকি চলতি চসিক নির্বাচনে আ’লীগের নেছার উদ্দিন আহমেদ মঞ্জুকে সমর্থন দিয়েছেন এই প্রশ্নের জবাব খুঁজতে মঞ্জুর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “শওকত আলী বিএনপি করে না৷” উলটো প্রতিবেদককে প্রশ্ন করে বলেন, “আপনি কি ওয়ার্ড বিএনপি কমিটির তালিকায় তার নাম দেখেছেন? আমার কাছে কমিটির তালিকা আছে।” সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে শওকত আলী তার ফেসবুক (Showkat Ali Chy) আইডিতে Works at Bangladesh Nationalist Party (বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদি দল) উল্লেখ করা এবং স্থানীয় সাজ্জাদুল ইসলাম নামের একটি আইডি সহ (৪ নভেম্বর, ২০১৭ ইং তারিখে) একাধিক বিএনপি নেতা কর্মীর আইডি থেকে ওয়ার্ড বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি শওকত আলীকে আকবর শাহ থানা বিএনপি কমিটির সভাপতি হিসেবে দেখতে চেয়ে প্রচারনা চালানোর বিষয়ে প্রশ্ন করলে নেছার উদ্দিন আহমেদ মঞ্জু এসব তথ্য সত্য নয় বলে উড়িয়ে দিয়ে সংযোগ কেটে দেন৷ এরপর একাধিকবার চেষ্টা করলেও তিনি সাড়া দেননি৷ নেছার উদ্দিন আহমেদ মঞ্জুর সাথে ফোনালাপের পর পরই শওকত আলীর সেই ফেসবুক আইডিটি আর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না৷

শওকত আলীর ফেসবুক আইডি ও তাকে নিয়ে সমর্থকদের স্টাটাস

১০ নং উত্তর কাট্টলী ওয়ার্ড বিএনপি সমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থী ও ওয়ার্ড বিএনপি’র সভাপতি আলহাজ্ব রফিক উদ্দিন চৌধূরীর কাছে শওকত আলী’র সিনিয়র সহ-সভাপতি পদের সত্যতার বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি এই প্রতিবেদককে বলেন, শওকত আরো আগের কমিটিতে ঐ পদে ছিলো বর্তমানে কাট্টলী ওয়ার্ড বিএনপির কার্য নির্বাহী কমিটির তিনি সম্মানিত সদস্য হিসেবে আছেন৷ আওয়ামী লীগ প্রার্থী নেছার উদ্দিন মঞ্জু বিএনপি নেতা শওকত আলীর বিএনপির কেউ না মর্মে যে বক্তব্য দিয়েছেন সেই বিষয়ে রফিক উদ্দিন প্রকাশ্য চ্যালেঞ্জ জানিয়ে বলেন, শওকত আলী আমার কমিটিরই সদস্য৷ আমি সভাপতি হিসেবে মূল তালিকা আমার কাছে আছে৷ মঞ্জু সাহেব নিজের কাউন্সিলর ভোটের স্বার্থে শওকতকে ব্যবহার করছেন৷ নির্বাচনের পর আমরা শওকতের বিষয়ে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিবো৷ এই বিষয়ে শওকত আলীর বক্তব্য জানতে চাওয়া হলেও তার মুঠোফোন বন্ধ ছিলো৷

সরেজমিন কাট্টলী ওয়ার্ড ঘুরে স্থানীয় একাধিক আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগ নেতার সাথে আলাপ কালে জানা যায়, সদ্য সাবেক মেয়র আ.জ.ম নাছির উদ্দিনের অনুশারি নেছার উদ্দিন আহমেদ মঞ্জু নিজেকে প্রফেসর ও ডক্টর পরিচয় দিয়ে আওয়ামী রাজনীতিতে আসেন৷ তিনি অতীতে এলাকায় ছাত্রলীগ, যুবলীগ করেনি। সাবেক কাউন্সিলর ও মেয়র মঞ্জুরুল আলম মঞ্জু বিএনপিতে যোগ দেয়ার সুযোগে অনেকটা সুযোগ সন্ধানী খেলায়াড় হিসেবে কাউন্সিলর নির্বাচিত হন মঞ্জু৷ শুরু থেকেই মঞ্জুর সাথে স্থানীয় জামায়াত ও বিএনপি’র সুসম্পর্ক বিরাজ করছে৷ একাধিকবার চসিক’র প্যানেল মেয়রের দ্বায়িত্ব পেলেও নগরীর প্রবেশদ্বার কাট্টলী ওয়ার্ডের তেমন উন্নতি না হলেও তার ব্যক্তিগত উন্নতি সাধিত হয়েছে৷ ফলে দিন দিন নিজের জনপ্রিয়তা হ্রায় পায়৷ বিএনপি জামায়াতের সাথে সখ্যতা গড়ে তোলায় স্থানীয় তরুণ-যুব সমাজ প্রকাশ্য কাউন্সিলর মঞ্জুর নানান অপকর্মের বিরুদ্ধে মানববন্ধন সহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছে৷ সেই সাথে মঞ্জুর অবৈধ দখলে থাকা বিপুল পরিমান জমির তথ্য জনসম্মুখে প্রকাশ করে৷

এরই অংশ হিসেবে এবারের চসিক নির্বাচনে স্থানীয় যুবলীগ নেতা ও কাট্টলীর বনেদী পরিবারের সন্তান মনোয়ারুল আলম চৌধুরী নোবেল কাউন্সিলর পদে সতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে লড়ছেন৷ নোবেল বলেন, “আপনারা সাংবাদিক সমাজ জাতীর বিবেক৷ আপনারা নিরোপেক্ষ ভাবে খোঁজ নিলেই জানতে পারবেন এলাকার সর্ব সাধারণের মাঝে মঞ্জুর ভাবমূর্তি কোন পর্যায়ে আছে৷ বিএনপির মেয়র প্রার্থী ডাঃ শাহাদাতের ঘণিষ্ট আব্বাস রশিদ আগে থেকেই মঞ্জুর ব্যবসায়িক পার্টনার৷ আগামী ভোটের দিন মঞ্জু কাউন্সিলর পদে নিজের মিষ্টি কুমড়াকে জয়ী করতে নৌকার এজেন্টদের ব্যবহার করবে কিন্তু ব্যাটলে মেয়রেত ভোট যাবে ধানের শীষে৷’ আপনি দলের নির্দেশ অমান্য করে কাউন্সিলর প্রার্থী হয়ে দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে মিথ্যে অভিযোগ তুলছেন কিনা প্রশ্ন করা হলে নোবেল বলেন, “মঞ্জু একাধিক বারের প্যানেল মেয়র৷ দল ক্ষমতায় এই পরিস্থিতে তার জয়প্রিয়তা তুঙ্গে থাকার কথা৷ কিন্তু আপনারা দেখেন তিনি বিএনপি ও জামায়াত নেতাদের নিয়ে ভোটের ক্যাম্পেইন করছে৷ কেন? কারণ মঞ্জু জানে নিরোপেক্ষ সুষ্ঠ ভোট হলে তিনি এবার নিশ্চিত পরাজিত হবেন৷ তাই তিনি নিজের কাউন্সিলর পদ বাঁচাতে মেয়র পদে রেজাউল করিমের পরিবর্তে ডাঃ শাহাদাতের সাথে ভোট ভাগের হিসেব করছে৷”

ট্যাগ :