বাংলাদেশ, শুক্রবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২১

আ’লীগ নেতা রানা’র ফোনালাপ ফাঁস : বিসিএস পাশের প্রলোভনে বিকৃত যৌনাচার


প্রকাশের সময় :২৭ জুন, ২০২১ ১১:২৭ : পূর্বাহ্ণ

চট্টগ্রামের কথিত এক কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ নেতার সাথে রাজধানীর একটি কলেজ ছাত্রীর অশ্লীল ফোনালাপ এখন সামজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। সেই ফোনালাপের সূত্রধরে অনুসন্ধানে কেঁচো খুড়তে গিয়ে রীতিমতো সাপ বেরিয়ে এসেছে।  একে একে সেই নেতার নানান কীর্তি কলাপের তথ্য প্রমান এসেছে এই প্রতিবেদকের হাতে৷ আজ প্রকাশিত হলো তার প্রথম পর্ব।

আলোচিত প্রায় ১৫ মিনিটের সেই ফোনালাপের শুরু থেকেই রানা মেয়েটিকে যৌনতাপূর্ণ কথাবার্তা শুরু করে৷ পুরো ফোনালাপটি বিবৃত যৌন বার্তায় পূর্ণ। সেই ফোনালাপ থেকে এটা পরিষ্কার বোঝা গেছে এক সন্তানের জনক নওশাদ মাহমুদ রানা সেই অবিবাহিত মেয়েটির সাথে পরকিয়ায় লিপ্ত।

ফোনালাপের সূত্রধরেই জানা গেছে বিবাহিত ৫৩ বছর বয়ষ্ক রানা নিজেকে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ নেতা পরিচয় দিয়ে নানান প্রলোভন দেখিয়ে রাজধানীর একটি কলেজের রিতা নামের এক ছাত্রীকে রীতিমতো নিজের কব্জায় রেখে নিয়মিত যৌনাচারে লিপ্ত হয়ে আসছে।  মেয়েটির পরিচিত একটি সূত্রে জানা গেছে, তার বেশ কিছু নগ্ন ছবি ও অডিও রেকর্ড করে রানা মেয়েটিকে তার সাথে অবৈধ সম্পর্কে জড়াতে বাধ্য করেছে। আলোচিত ফোনালাপেও ভিডিও কল দেয়ার কথাটিও শোনা যায়। সেসব বিষয়গুলো রানা নিয়মিত রেকর্ড করে রাখতো।

এদিকে ফোনালাপটি রানার কিনা সেটা নিশ্চিত হতে রানার ঘনিষ্ঠ একাধিক জনকে সেই ফোনালাপ শোনানো হলে তারা চরম ভাবে বিব্রত বোধ করেন এবং ফোনালাপটি রানার বলে নিশ্চিত করেছেন। রানার অনেক দিনের পরিচিত ব্যক্তিরা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, রানার স্ত্রী সন্তান থাকার পরও সে পরনারীতে আসক্ত। মদ ও নারীর নেশা রানার অনেক পুরনো অভ্যাস। এই বিষয়ে নওশাদ মাহমুদ রানা’র সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, “আমার ব্যবসায়িক লেনদেন সংক্রান্ত একটি বিরোধ আছে তারাই এসব ছড়াচ্ছে। রেকর্ডিং টা আমার স্ত্রীসহ বন্ধুদেরো পাঠানো হয়েছে৷ আমি সাইবার আইনে এই বিষয়ে একটি অভিযোগ করেছি।” আলোচিত ফোনালাপের ভয়েস আপনার কিনা জানতে চাইলে তিনি তার ভয়েসকে এডিট করে জুড়ে দেয়া হয়েছে বলে ধারণা করছেন বলে জানান৷ সেই কলেজ ছাত্রীর সাথে তার পরিচয় থাকার বিষয়টি স্বীকার করলেও সেটা দলীয় কার্যালয়ে একবার সাক্ষাত হয়েছিলো বলে জানান। এসময় রানা জানান তিনি আগে রাজনীতি করলেও এখন ব্যবসা নিয়েই আছেন৷ রানা এসময় প্রশ্ন করেন, একটি কলেজের মেয়ে কি আমার সাথে এমন সম্পর্কে জড়াবে? এসময় রাজধানীতে কলেজ পড়ুয়া এক মেয়ের উচ্চাবিলাসি জীবন ও আত্মহত্যার নেপথ্যে এক শীল্পপতির প্রসঙ্গ তুলে আনলে তিনি আর কোনো কথা বাড়াননি।

ভাইরাল হওয়া ১৫ মিনিটের সেই ফোনালাপের একটির স্ক্রিনশট সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম থেকে সংগৃহীত

কি আছে সেই ফোনলাপে? 
সেই ১৫ মিনিটের ফোনালাপে রানা রিতাকে নানান বিবৃত যৌন সম্পর্কিত আলাপ করতে শোনা যায়। সেই ফোনালাপ থেকে পরিষ্কার বোঝা গেছে মেয়েটি বাড়ি ফিরে যেতে চাইলেও রানা মেয়েটিকে মাস্টার্স ও বিসিএস করানোর আশ্বাস দিয়ে রাজধানী ঢাকায় একটি বাসায় থাকতে বাধ্য করছে। বিনিময়ে রানা সেই ছাত্রীর সাথে বিকৃত ধরনের শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করছে। সেই আলাপে মেয়েটি বারবার তার ভবিষ্যৎ পরিণতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করলেও রানা সেসব উড়িয়ে দিতে শোনা যায়। একপর্যায়ে মেয়েটির বড় বোনকেও চাকুরী দেয়ার আশ্বাস দেয় রানা৷ ফোনালাপে কোন এক আবাসিক হোটেলে তাদের নিয়মিত মিলিত হওয়ার প্রসঙ্গটিও শোনা গেছে৷ মেয়েটি তার নিরাপত্তা নিয়ে শংকিত বলে জানালেও রানা নিজের ক্ষমতার জোরে ইতিপূর্বেও আটক হয়ে ছাড়া পেয়ে চলে আসার বিষয়টি উল্লেখ করে৷ পরে মেয়েটিকে বোরকা পরে সেখানে আসতে পরামর্শ দিতে শোনা যায়৷

কে এই রানা? চট্টগ্রামের চান্দগাঁও এলাকার মৃত সামিশুল আলমের ছেলে নওশাদ মাহমুদ রানা। বাবা বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং একজন ভালো মানুষ ছিলেন তাই বাবার নামের উপর ভরকরে বনে যান কেন্দ্রীয় যুবলীগের সদস্য। এরপর আত্বস্বীকৃত ভাবে নিজেকে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের উপ কমিটির কথিত সহ-সম্পাদক পরিচয় দেয় রানা৷ যুবলীগের শুদ্ধি অভিযান চলাকালিন এই রানাই সাবেক যুবলীগের সভাপতি ওমর ফারুক চৌধুরীর বিরুদ্ধে পদ বাণিজ্যের অভিযোগ তুলেছিলো৷ শুধু তাই নয় একটি জেলা যুবলীগের কমিটির সভাপতি যিনি বর্তমানে একজন উপজেলা চেয়ারম্যান তেমন এক রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে রানা যুবলীগের তৎকালীন সভাপতির ক্যাশিয়ার হিসেবে আখ্যা দিয়েছিলেন৷ যদিও এসবের স্বপক্ষে কোনো প্রমান আজ অব্দি তিনি দিতে পারেননি। নিজের পাশাপাশি রানা তার ছোট ভাই পাপ্পুকেও কেন্দ্রীয় কমিটির পদে বসিয়েছেন৷

রানার খুটির জোর কোথাই ? নগরীর আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগের একাধিক নেতারা জানিয়েছে রানাকে চট্টগ্রামে কেউ নেতা হিসেবে গন্য করেনা৷ তাই সে বরাবরই কেন্দ্রে নামমাত্র পদ নিয়ে আসে৷ আর ছোট ভাই চট্টগ্রামে স্বেচ্ছাসেবক লীগ না করলেও কেন্দ্রে পদ ঠিকই পেয়ে গেছে৷ বেশীর ভাগ নেতাদের ভাষ্য মতে রানা ইতিপূর্বে সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিতের ঘনিষ্ঠ হিসেবে নিজেকে পরিচয় দিতো৷ সেই পরিচয় সূত্রে সে চট্টগ্রাম বন্দর ও কাস্টমস হাউসে বেশ প্রভাব বিস্তার করে আসছিলেন বলে একাধিক সিএন্ডএফ ব্যবসায়ী নেতারা জানিয়েছে৷ সাবেক অর্থমন্ত্রী অবসরে যাওয়ার পর রানা এখন নিজেকে সাংসদ বাহাউদ্দিন নাসিমের ঘণিষ্ঠজন হিসেবে পরিচয় দিচ্ছে৷ এছাড়া বেশ কিছু পুলিশ কর্মকর্তার সাথে ঘনিষ্ঠতার সুযোগে অপহনের মতন ঘটনা সংঘঠিত করার অভিযোগও আছে রানার বিরুদ্ধে৷

সেই আলোচিত ফোনালাপের এর চুম্বক অংশ :

https://www.facebook.com/watch/?v=181917940558429

ট্যাগ :