বাংলাদেশ, বুধবার, ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২১

শিরোনাম

আলোচিত সুদীপ্ত হত্যা : নির্দেশ দাতা ‘বড় ভাই’সহ ২৪ জনকে আসামি করে চার্জশিট


প্রকাশের সময় :১ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ৪:২৪ : অপরাহ্ণ

হত্যাকান্ডের তিন বছর পর অবশেষে চট্টগ্রামের বহুল আলোচিত সুদীপ্ত বিশ্বাস হত্যা মামলার চার্জশিট আদালতে দাখিল করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেসটিকেশন (পিবিআই)৷ অভিযোগপত্রে হত্যার নির্দেশদাতা কথিত বড় ভাই আওয়ামী লীগ নেতা দিদারুল আলম মাসুম সহ ২৪ জনকে আসামী করা হয়েছে৷

গতকাল রোববার (৩১ জানুয়ারি) মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পিবিআই চট্টগ্রাম মহানগর কার্যালয়ের পরিদর্শক সন্তোষ কুমার চাকমা মহানগর আদালতের প্রসিকিউশন শাখায় অভিযোগপত্রটি জমা দেন। ৯ ফেব্রুয়ারি অভিযোগপত্রের ওপর শুনানির দিন ধার্য করেছেন আদালত।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও পিবিআই চট্টগ্রাম মেট্রোর পরিদর্শক সন্তোষ কুমার চাকমা জানিয়েছেন, “অভিযোগপত্রে ২৪ জনকে আসামি করা হয়েছে। আর সাক্ষী করা হয়েছে ৭৫ জনকে। আসামিদের ১৮ জনকে বিভিন্নসময় গ্রেফতার করা হয়েছে। ছয়জন এখনও পলাতক আছেন।”

২০১৭ সালের ৬ অক্টোবর ভোরে চট্টগ্রাম নগরের সদরঘাট থানাধীন নালাপাড়ার বাসায় হানা দিয়ে চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগের সহ-সম্পাদক সুদীপ্তকে ঘুম থেকে তুলে টেনেহিঁচড়ে বাইরে নিয়ে এসে বেদম পিটিয়ে গুরুতর আহত করা হয়। পরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হলে সেখানে চিকিৎসকরা সুদীপ্তকে মৃত ঘোষণা করা হয়।

এই হত্যকান্ডের পর আইনশৃংখলা বাহিনীর হাতে একে একে গ্রেফতার হতে থাকে হত্যাকান্ডে জড়িতরা৷ এক পর্যায়ে গ্রেফতারকৃত একাধিক আসামীর আদালতে দেয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে উঠে আসে সুদীপ্ত হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী এক বড় ভাইয়ের নাম৷। সেই বড় ভাই নগরীর লালখান বাজার ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক দিদারুল আলম মাসুম। যিনি ঘটনার আগের দিন আরেক আসামি আইনুল কাদের নিপুকে দুই ঘণ্টার ভেতর কাজ শেষ করে, পুরো ঘটনা ভিডিও করে আনার নির্দেশ দেন। সেই নির্দেশনা মোতাবেক হত্যাকান্ডে অংশ নেয়া আসামী মোক্তার সুদীপ্ত বিশ্বাসকে হত্যার পুরো ঘটনাটি মুঠোফোনে ধারণ করে৷ পরে সেই ভিডিও গণমাধ্যমে প্রকাশ হয়ে যায়৷ তদন্তের এক পর্যায়ে ২০১৯ সালের ৪ আগস্ট রাতে রাজধানীর বনানী থেকে গ্রেফতার করা হয় বড় ভাই দিদারুল আলম মাসুমকে। পরে তিনি জামিনে বেরিয়ে আসেন।


কে এই মাসুম ? :
চট্টগ্রাম সিটি কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি দিদারুল আলম মাসুমের উত্থান প্রয়াত আওয়ামী লীগ নেতা এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর সমর্থক হিসেবে। তবে ২০১৪ সালে সিটি করপোরেশন নির্বাচনের পর মহিউদ্দিন গ্রুপ ছেড়ে নগর আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দীনের গ্রুপে চলে আসেন মাসুম। তবে স্থানীয় রাজনীতিতে মানুষ সাবেক প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ডা. আফসারুল আমীনের অনুশারী হিসেবেও পরিচিত ছিলো। নগরীতে হেফাজত ইসলামের সাথে সম্মুখ প্রতিরোধে প্রকাশ্য অস্ত্রহাতে রাজপথে দেখা যায় মাসুমকে৷ সেই অস্ত্রসহ ছবি সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত হলে দেশজুড়ে পরিচিতি পান মাসুম৷ তবে সেই শর্টগানটি মাসুমের লাইসেন্সকৃত ছিলো৷ এবং হেফাজতের উগ্র সমর্থকদের হামলা থেকে নিজেকে এবং এলাকার লোকজনের জীবন রক্ষার্থে সেদিন গুলি চালাতে বাধ্য হয়েছিলেন বলে দাবী করেছিলেন মাসুম৷

লালখান বাজার এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে নিজ দলের প্রতিপক্ষের সঙ্গে ক্রমাগত সংঘাত, কয়েকটি খুনের ঘটনায় বারবার গণমাধ্যমে মাসুমের নাম উঠে আসতে থাকলে। একপর্যায়ে তৎকালীন ওয়ার্ড কাউন্সিলর এফ কবির মানিকের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে দিদারুল আলম মাসুমের লাইসেন্স করা দুটি অস্ত্রের লাইসেন্স বাতিল করে অস্ত্রদুটি স্থানীয় খুলশী থানায় জমা নেয়া হয়৷ গত চসিক নির্বাচনে এলাকার কাউন্সিলর পদে দলীয় মনোনয়ন চেয়েও ব্যর্থ হন মাসুম৷ সেই এলাকায় আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পায় মাসুমেরই এক সময়ের রাজনৈতিক ছোট ভাই আবুল হাসনাত বেলাল। যিনি ইতিমধ্যে নির্বাচনে বিজয়ী হয়েছেন।

ট্যাগ :