বাংলাদেশ, বৃহস্পতিবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২১

কলেজ ছাত্রকে তুলে নিয়ে নির্মম নির্যাতন : মূলহোতারা পলাতক


প্রকাশের সময় :১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ৩:০৯ : অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক : প্রকাশ্য দিবালোকে অনেকটা ফিল্মি স্টাইলে রিক্সা থেকে নামিয়ে কলেজ ছাত্র অজয় সাহার ওপর হামলে পড়ে একদল যুবক৷ এরপর তাকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয় কোতোয়ালী থানাধীন শহীদ মিনার সংলগ্ন নির্মানাধীন একটি ভবনে। সেখানে চালানো হয় নির্মম নির্যাতন। এক পর্যায়ে তাকে উলঙ্গ করে টিকটক ভিডিও ধারণ করা হয়। একই সময় অজয়ের বাবার নাম্বারে কল দিয়ে আদায় করা হয় মুক্তিপন। আর এমন ঘটনাটি সংঘটিত করেছে চট্টগ্রাম নগরীর স্মিথ চাকমা ও রুপক মাহাদীর নেতৃত্বাধীন একটি উঠতি ভয়ংকর গ্যাংয়ের সদস্যরা৷

গত ৯ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় এই ঘটনার পর কোতোয়ালী থানা পুলিশ তাৎক্ষনিক অভিযান চালিয়ে ৩ জনকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হলেও ঘটনার মূলহোতা স্মিথ চাকমা ও রুপক মাহাদী গা ঢাকা দিয়েছে৷ ঘটনার পর গুরুতর আহত কলেজ ছাত্র অজয় সাহাকে অজ্ঞান অবস্থায় চমেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে৷ পরদিন অজয় হাসপাতালের বেডে ঘটনার আবছা বর্ণনা দিলে তার বাবা স্বপন সাহা বাদি হয়ে একটি মামলাটি দায়ের করে। বাদি জানান, আমার ছেলে মাথায় আঘাত পাওয়ায় তখন বিস্তারিত খুলে বলতে পারেনি৷ আমি যতটুকু বুঝতে পেরেছি তাতে ৫ জনের নাম ও ঘটনার বিবরণ দেয়ার চেষ্টা করেছি৷ গতকাল (১৩ সেপ্টেম্বর) আমার ছেলে স্ববিস্তারে ঘটনার বিষয় জানালে আমরা বুঝতে পারি সেদিন পুরো ঘটনাটি স্মিথ চাকমা ও রুপক মাহাদীর নেতৃত্বেই হয়েছিলো৷

অজয়ের দেহে আঘাতের চিহ্ন

ভিকটিম অজয় সাহা আজ (১৪ সেপ্টেম্বর) বিভিন্ন গণ মাধ্যমের সাংবাদিকদের কাছে সেদিনের ঘটনা তুলে ধরেন৷ এসময় তার শরীরে বিশেষ করে মুখে, চোখে ও পিঠে আঘাতের চিহ্ন দেখা গেছে৷ বেধড়ক লাঠির আঘাতে এখনো সে চলাফেরা করতে পারছেনা

এমইএস কলেজে বিবিএস এর শিক্ষার্থী অজয় সাহা (২৬) জানান,  ৯ সেপ্টেম্বর বিকেলে শপিং করার জন্য কোতোয়ালী থানাধীন নিউ মার্কেটস্থ রিয়াজউদ্দিন বাজারে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাসা হইতে বের হয়। সন্ধ্যা অনুমান ৬টায় কোতোয়ালী থানাধীন রাইফেল ক্লাব রোডস্থ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে পৌছামাত্র পূর্ব শত্রুতার জের ধরে স্মিথ চাকমার নেতৃত্বে অজ্ঞাতনামা ১০/১২ জন তাকে তুলে নেয়। এরপর তাকে শহীদ মিনারের পাশের নির্মানাধীন ভবনে নিয়ে গিয়ে স্মিথ চাকমা, রুপক মেহেদী ও তাদের কিশোর গ্যাং এর ১০/১২ জন লাঠিশোটা দিয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে তার মাথায়, হাতে, পিঠে, চোখে, ঠোটে এবং কোমরে গুরুতর রক্তাক্ত জখম করে। এক পর্যায়ে তাকে উলঙ্গ করে রুপক মেহেদী তার মোবাইলে ভিডিও ধারণ করে। এসময় সে ভিডিও দিয়ে টিকটক বানাবে বলে জানায়। এসময় এজাহারে উল্লেখিত অপর তিন আসামী যারা অজয় সাহার বন্ধু হয় তারা উপস্থিত থাকলেও বন্ধুকে বাঁচাতে এগিয়ে আসেনি। সেই বন্ধুরা হলো, ইসফার (২৭), জিসান রাজ দেব (২৪) ও শৈবাল মজুমদার (২৬)। এই তিনজনকে ঘটনার পরপর পুলিশ অভিযান চালিয়ে তাদের বাসা থেকে আটক করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটককৃতরা ঘটনায় জড়িত না থাকলেও সেখানে উপস্থিত থাকার কথা স্বিকার করেছে৷ তাদের দাবি স্মিথ ও রুপকের ডাকে তারা ঘটনাস্থলে গিয়েছিলো৷

এই বিষয়ে কোতোয়ালী থানার অফিসার ইনচার্জ নেজাম উদ্দিন জানিয়েছেন, মামলার উল্লেখিত ৫ জনের মধ্যে ৩ জনকে গ্রেফতার করে আদালতে প্রেরণ করা হয়৷ অপর দুইজনকে গ্রেফতারে চেষ্টা অব্যহত রয়েছে৷

এদিকে একাধিক সূত্রে জানা গেছে, শীর্ষ সন্ত্রাসী অমিত মুহুরী কারা অভ্যান্তরে খুন হওয়ার পর স্মিথ চাকমা ও রুপক মেহেদীর নেতৃত্বে একটি গ্যাং নগরীর শহীদ মিনার, জুবলী রোড, জামাল খান ও রাজা পুকুর লেইন এলাকায় একাধিক কিশোর গ্যাং এর নেতৃত্ব দিচ্ছে। রাজাপুকুর লেইনের বাসিন্দা স্মিথ চাকমা ও জামাল খানের বাসিন্দা রুপক মেহেদী শহীদ মিনার এলাকায় গাঁজার আসর বসিয়ে নিয়মিত মাদক সেবন করতো৷ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জামাল খান আজাদী গলির একাধিক জন জানিয়েছে স্মিথ ও রুপকের পরিবারকে অনেকবার অভিযোগ দিয়েও বিচার পায়নি৷

 

 

ট্যাগ :