বাংলাদেশ, শুক্রবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২১

চকবাজারের সড়ক ও ফুটপাত জুড়ে অবৈধ দোকান: স্থায়ী উচ্ছেদ চায় পুলিশ


প্রকাশের সময় :৩১ আগস্ট, ২০২১ ৫:৩৬ : অপরাহ্ণ

নগরীর শিক্ষা পাড়া হিসেবে খ্যাত ও অন্যতম  ব্যস্ত এলাকা চকবাজার। স্কুল-কলেজ, কোচিং সেন্টার, বিপণী বিতানে ঘেরা এলাকাটিতে সন্ধ্যা নামতেই সড়কে চলাফেরা করা হয়ে উঠে দুস্কর। সড়ক ও ফুটপাতে চলাচলে চরম বেগ পেতে হয় পথচারীদেরও। এছাড়া অবৈধ টমটম চলাচলের নিরাপদ রুট হিসেবে দীর্ঘদিন ব্যবহৃত হয়ে আসছে চকবাজার ডিসি রোড সহ রাহাত্তার পুল পর্যন্ত সড়কটি। এসব অবৈধ দোকান ও টমটমক বাণিজ্যে সক্রিয় রয়েছে একাধিক সিন্ডিকেট। তবে এবার এসব স্থায়ী ভাবে বন্ধে বেশ আটঘাট বেঁধে নামছেন বলে জানান সদ্য যোগদান করা সিএমপি’র চকবাজার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ ফেরদৌস জাহান।

সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, চকবাজার ধনিরপুল থেকে ফুলতলা সড়কের দু’পাশে গড়ে উঠেছে অবৈধ কাঁচাবাজার। এই সড়কে দৈনিক কয়েক লাখ মানুষের চলাচল রয়েছে। সরু এই সড়কে চলাচল করছে বিপুল সংখ্যক অবৈধ টমটম। ফলে এই সড়কটিতে যানজট স্থায়ী রুপ ধারণ করেছে। এসকল অবৈধ দোকান ও বেপরোয়া টমটমের কারণে স্থানীয়রা নানান ভোগান্তিতে পরছে।

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র এম রেজাউল করিম চৌধুরী দায়িত্ব গ্রহণের পর ব্যাপক অভিযান চালান সড়কটি দখলমুক্ত করতে। তবে অবৈধ এসবের নেপথ্যে সরকার দলীয় নামসর্বস্ব ব্যক্তিরা জড়িত থাকায় স্থানী ভাবে আসেনি কোনো সফলতা। বরং দিনেদিনে বাড়তে থাকে এসব অস্থায়ী অবৈধ দোকান৷ চকবাজার ডিসি রোডের স্থানীয় বাসিন্দা জহিরউদ্দীন আক্ষেপ করে বলেন, এসব অবৈধ দোকানীরা আগে ফুটপাতে বসে ব্যবসা পরিচালনা করতো, চসিকের অভিযানের পর থেকে তারা ফুটপাথের পাশাপাশি সড়কে ভ্যান গাড়িতে ব্যবসা করছে৷ এতে করে আগের চেয়ে সড়কের অধিক জায়গা তাদের দখলে চলে গেছে।
একজন দোকানীর সাথে আলাপ করে জানা যায়, তারা এককালীন পঞ্চাশ হাজার টাকা ও দৈনিক দুইশো টাকা ভাড়ার বিনিময়ে এখানে ব্যবসা করছেন। সড়ক ফুটপাতের এসব দোকানের কারণে চসিক পরিচালিত কাঁচাবাজারের ব্যবসায়ীদের রীতিমতো গুনতে হচ্ছে লোকসান। বাজারের দ্বিতীয় তলাও সম্পূর্ণ পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে। অথচ এই সড়ক থেকেও চকবাজারের ইজারাদারের লোকজন নিয়মিত টাকা নিচ্ছে।

চকবাজারের তেলপট্টি মোড় থেকে অলি খাঁ মসজিদ মোড়, সেখান থেকে গোলজার মোড় হয়ে কেয়ারিসহ চট্টগ্রাম কলেজের হোস্টেল গেইট পর্যন্ত দেখা গেছে বিপুল সংখ্যক ভাসমান দোকান। স্থানীয়দের মতে পুরো চকবাজার ঘিরে অন্তত পাঁচশো দোকান বসে প্রতিদিন। সন্ধ্যার পর বিভিন্ন গ্রুপের লোকজন এসে ব্যবসার ধরণ অনুযায়ী টাকা নিয়ে যায়। দিনে অন্তত চার দফা চাঁদা দিয়ে ব্যবসা করছে বলে এসব দোকানীরা জানিয়েছেন। টাকা না দিলে এসব ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলার ঘটনা হরহামেসায় ঘটলেও অনেকটা নীরব দর্শকের ভূমিকায় থেকেছে চকবাজার থানা পুলিশ।

অভিযোগ আছে এসব অপকর্মে পিছিয়ে নেই পুলিশও। ডিউটি পুলিশ একদফা, থানার ক্যাশিয়ার পরিচয়ে কথিত ব্যক্তি আরেক দফা টাকা তুলে বলে অভিযো হকারদের। প্যারেড মাঠের পূর্ব পাশে রয়েছে ১০-১৫টি টঙ চায়ের দোকান। এখানে বসে বখাটেদের আড্ডা। ইভটিজিং থেকে শুরু করে তুচ্ছ বিষয়ে প্রায়শই ঘটে সংঘাত-সংঘর্ষ। লালচাঁদ সড়কে অবস্থিত চকবাজার থানা। আর থানার দু’পাশেই সড়কজুড়ে অন্তত ৫০টি দোকান বসে। এ থানা এলাকায় অবৈধ ভাবে গড়ে উঠেছে বেশ কয়েকটি পরিবহন স্ট্যান্ড। এখান থেকে নগরজুড়ে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে অসংখ্য রেজিস্ট্রেশন বিহীন গাড়ি। কেয়ারি মার্কেটের সামনে দুইটি, গোলজার মোড়ে একটি ও অলিখাঁ মসজিদ মোড়ে একটি অটো টেম্পো স্ট্যান্ড রয়েছে। ধনিরপুল থেকে রাহাত্তারপুল সড়কে ব্যাটারি চালিত নিষিদ্ধ টমটম কিছুদিন পরপর চলতে দেখা যায়। আবার পুলিশের অভিযানের মুখে বন্ধ হয়ে ক’দিন পর আবারো ফিরে আসে এসব টমটম।

তবে এবার স্থায়ী ভাবে সড়ক-ফুটপাথের অবৈধ দোকান ও সড়ক থেকে অবৈধ যানবাহন স্থায়ী ভাবে উচ্ছেদকে অগ্রাধিকার দিয়ে কর্মপরিকল্পনার কথা জানালেন সম্প্রতি চকবাজার থানায় যোগ দেয়া অফিসার্স ইনচার্জ (ওসি) মোঃ ফেরদৌস জাহান বলেন, ইতিমধ্যে বাজার কমিটি ও ইজারাদারকে থানায় ডেকেছি৷ তারা কি মূলে ইজারা নিয়েছেন এবং সড়কের অবৈধ দোকান থেকে টাকা তুলেন সেই বিষয়ে আজকের (৩১শে আগস্ট) মধ্যে উপযুক্ত কাগজ পত্র দেখাতে বলেছি। এই বাজারটি মার্কেটের ভেতর চলে যাওয়ার কথা কিন্তু তারা সেটা মানছেন না তাই আমরা সিটি কর্পোরেশনকেও বিষয়টি অবগত করে সম্মিলিত ভাবে স্থানী ভাবে উচ্ছেদের পরিকল্পনা নিয়েছে। ইতিপূর্বেও একাধিকবার এমন উদ্যোগ নেয়া হলেও আবার একই রুপে ফিরে এসেছে এর কারণ কি জানতে চাইলে চকবাজার থানার ওসি ফেরদৌস বলেন, জ্বি অতীতেও অনেকবার উচ্ছেদ হয়েছে বলে আমি জেনেছি৷ আমি স্থায়ীভাবে উচ্ছেদ করতেই সকল পক্ষের সাথে বৈঠক শুরু করেছি৷ সমস্যার মূল থেকে সেটিকে দূর করলে আশাকরি সুফল আসবে৷ টমটম প্রসঙ্গে তিনি বলেন, টমটম সম্পর্ণ নিষিদ্ধ।

ট্যাগ :