বাংলাদেশ, বুধবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২১

জুয়ার আসরের বিষয়টি তদন্তে প্রমাণিত: মিলেছে রেফারি মিরণের সম্পৃক্ততা


প্রকাশের সময় :৯ জুন, ২০২১ ৭:১১ : অপরাহ্ণ

চট্টগ্রামের এম.এ. আজিজ স্টেডিয়ামের দক্ষিণ গ্যালারিতে অবস্থিত ফুটবল রেফারিজ অ্যাসোসিয়েশনের কার্যালয়ে গত ১লা জুন রাতে অভিযান চালিয়ে ১৯ জনকে জুয়া খেলার অভিযোগে গ্রেপ্তার ও পৌনে সাত লাখ টাকা জব্দ করেছিল পুলিশ।

ঘটনার পর চট্টগ্রাম রেফারিজ অ্যাসোসিয়েশনের কার্যালয় সিলগালা করে চট্টগ্রাম জেলা ক্রীড়া সংস্থার (সিজেকেএস) সহ-সভাপতি হাফিজুর রহমানের নেতৃত্বে নয় সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।
সেই কমিটি ০৭ দিনের মাথায় বুধবার সিজেকেএস সাধরণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দীনের কাছে তাদের প্রতিবেদন জমা দিয়েছে।

ফুটবল রেফারিজ অ্যাসোসিয়েশনে জুয়ার আসর পরিচালনায় সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক, সাবেক ফিফা রেফারি আব্দুল হান্নান মিরণের সম্পৃক্ততা পাওয়ার কথা জানিয়েছে তদন্ত কমিটি। কমিটি মিরণকে স্টেডিয়াম এলাকায় আজীবন অবাঞ্ছিত ঘোষণা, রেফারিজ অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সদস্যপদসহ সব পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়াসহ পাঁচটি সুপারিশ করেছে।
তদন্ত কমিটি মিরণ ছাড়াও রেফারিজ অ্যাসোসিয়েশনের কোষাধ্যক্ষ ফরহাদ হোসেন ও নির্বাহী সদস্য বিশ্বজিৎ সাহাকে ফুটবল রেফারিজ অ্যাসোসিয়েশন সাধারণ সদস্য পদ সহ সব পদ থেকে ও জেলা ক্রীড়া সংস্থার সব কার্যক্রম থেকে থেকে তিন বছর বহিষ্কারের সুপারিশ করেছে।

তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়ে কমিটি প্রধান হাফিজুর রহমান জানান, জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির ফুটবল রেফারিজ অ্যাসোসিয়েশনেরও সভাপতি। সে জন্য তারা প্রতিবেদনটি দুটি ভাগে ভাগ করেছেন। একটি ভাগ রেফারিজ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি হিসেবে তার নজরে আনা হয়েছে। আরেকটি জেলা ক্রীড়া সংস্থার জন্য।

যদিও জুয়ার আসর পুলিশ ভেঙে দেওয়ার পর মিরণ এতে তার সম্পৃক্ততার কথা অস্বীকার করেছিলেন।

অভিযানের পর পুলিশ জানায়, ফুটবল রেফারিজ অ্যাসোসিয়েশনে আলাদা একটি কক্ষকে তারা ফুটবল ট্রেনিং একোডেমি হিসেবে ব্যবহার করছে। সে কক্ষটিতে আলাদা সিঁড়ি লাগিয়ে দোতালা করা হয়। সেখানে প্রতিদিন জুয়ার আসর বসতে বলেও জানান।

তদন্ত কমিটি রেফারিজ অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মিরণসহ ০৭ জন কর্মকর্তার লিখিত ও মৌখিক বক্তব্য গ্রহণ করেছে। পাশাপাশি জুয়ার বোর্ড চালানোর জন্য যেসব ব্যক্তিদের সঙ্গে চুক্তি করা হয়েছিল, তাদের চারজনেরও বক্তব্যও গ্রহণ করেছে।

সিজেকেএস সহ-সভাপতি হাফিজ বলেন, রেফারিজ অ্যাসোসিয়েশনে জুয়ার আসর বসার বিষয়টি তদন্ত কমিটির কাছে সন্দেহাতীত ভাবে প্রমাণিত হয়েছে।

আব্দুল হান্নান মিরণ সাধারণ সম্পাদক হিসেবে ফুটবল রেফারিজ অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষে সীমান্ত সেন নামে এক ব্যক্তির সাথে ৩০০ টাকার স্ট্যাস্পে চুক্তি স্বাক্ষর করেছেন। যেখানে নির্বাহী সদস্য বিশ্বজিৎ সাহা ও অনুপম বড়ুয়া অপু নামে সাবেক এক ফুটবল খেলোয়াড় সাক্ষী হিসেবে চুক্তিপত্রে স্বাক্ষর করেছিলেন।

ট্যাগ :