বাংলাদেশ, বৃহস্পতিবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২১

শিরোনাম

ধরা ছোঁয়ার বাইরে হত্যাকারীরা : যে সকল নেতার আশির্বাদ নিয়েছে টিপু


প্রকাশের সময় :১৬ নভেম্বর, ২০২০ ১১:৫১ : পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদন : নগরীর ডবলমুরিং থানাধিন আগ্রাবাদ এলাকায় সন্ত্রাসীদের হাতে যুবলীগ কর্মী মারুফ চৌধুরী মিন্টু হত্যাকান্ডের তিনদিন পার হয়ে গেলেও এখনো হত্যাকারীদের নাগাল পায়নি আইন শংখলা বাহিনী৷

গত ১২ নভেম্বর বৃহস্পতিবার রাত পৌনে দশটার দিকে স্থানীয় কিশোর গ্যাং লিডার মোস্তাফা কামাল টিপুর নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী ডবলমুরিং থানাধীন আগ্রাবাদ হোটেলের পাশের সড়কে মিন্টুকে পিটিয়ে গুরুতর আহত করে। এ সময় সন্ত্রাসীদের আঘাতে মিন্টু মাথায় গুরুতর আঘাত পান। সংজ্ঞাহীন আশংকাজনক অবস্থায় নগরীর রয়েল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

মিন্টু নিহতের পর তার বোন রোজি চৌধুরী বাদি হয়ে গ্যাং লিডার মোস্তাফা কামাল টিপু সহ সাতজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত আরো ১২ জনের নামে ডবলমুরিং থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন৷ মামলায় আসামীরা হলেন, ১/ মোঃ রমজান আলী (২৫) পিতা- মোঃ আক্তার ২/ মোস্তাফা কামাল টিপু (৪০) পিতা সবুর মাস্টার ৩/মোঃ নাহিদ (২৮) ৪/ মোঃ মাহবুব (৩৫) ৫/ফয়সাল খান (২২) ৬/শাহেদ (৩৬) এবং ৭/ মোঃ রাব্বি৷ এছাড়া আরো ১০/১২ জনকে আসামী করা হয়েছে৷ এই বিষয়ে নিহতের বড় ভাই আলাউদ্দিন চৌধুরী বলেন, আমার ভাইকে পরিকল্পিত ভাবেই হত্যা করা হয়েছে৷ মোস্তাফা কামাল টিপুর সরাসরি দিকনির্দেশনায় মিন্টুর ওপর হামলা চালায় সন্ত্রাসীরা। আমরা দ্রুত হত্যাকারীদের গ্রেফতার ও শাস্তি চাই৷

এই বিষয়ে মামলা তদন্ত কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শল অর্নব বড়ুয়ার কাছে জানতে চাইলে তিনি সিক্সটিন বাংলাকে বলেন, আমার উর্ধ্বতন স্যারদের সার্বিক দিকনির্দেশনায় মিন্টু হত্যামামলার আসামীদের গ্রেফতারে আমরা তৎপর আছি ইতিমধ্যে একাধিল সম্ভাব্যস্থানে অভিযান চালানো হয়েছে৷। আশাকরছি শীঘ্রই অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে সক্ষম হবো৷

কেন এই হত্যাকান্ড ?
মোগল টুলি ওয়ার্ডে একটি কথা বেশ প্রচলিত৷ মোস্তাফা কামাল টিপু আজ যার অনুসারি কাল তারই শত্রু৷ ওয়ার্ডের সদ্য সাবেক কাউন্সিলর আব্দুল কাদেরের সাবেক আস্থাভাজন মোস্তাফা কামাল টিপু বর্তমানে কাদেরের প্রধান প্রতিদ্বন্দি আরেক কাউন্সিলর প্রার্থী নজরুল ইসলাম বাহাদুরের স্নেহভাজন হয়ে মাঠে নেমেছে৷ ইতিমধ্যে কাদের গ্রুপের বিরুদ্ধে বাহাদুর গ্রুপের হয়ে একাধিক সংঘাতে জড়িয়েছে টিপুর বাহিনী৷ অন্যদিকে কাদেরের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত নিহত মিন্টুর আপন বড় ভাই আলাউদ্দিন প্রকাশ পিচ্চি আলো আগ্রাবাদ বাণিজ্যিক এলাকার ফুটপাথের অবৈধ দোকানের নিয়ন্ত্রন করে৷ সে নিয়ন্ত্রন নিজের কব্জায় নিতো মরিয়া ছিলো টিপু৷ প্রতিপক্ষ পিচ্চি আলোকে ঘায়েল করতে পিচ্চি আলোর একসময়ের সহযোগী রমজান আলীকে নিজ গ্রুপে ভিড়িয়ে নেয় টিপু৷ অভিযোগ আছে মিন্টু হত্যাকান্ডের সময় নিহতের মাথায় আঘাতটা করেছিলো রমজান৷

ওপরের ছবিতে (লালবৃত্তে) মিন্টু হত্যার প্রধান আসামী রমজান টিপুর নেতৃত্বে মিছিলে। নীচের ছবিতে ৩নং আসামী মাহবুর সাথে টিপু।

মিন্টু হত্যা মামলায় মোস্তাফা কামাল টিপুকে ২নং আসামী করার পর থেকে তিনি আত্মগোপনে আছেন৷ তবে তার ব্যবহৃত ফেসবুক আইডিটি এই প্রতিবেদন লিখা পর্যন্ত (বিকেল সাড়ে ৫টা) সচল দেখা গেছে৷ সেই ফেসবুকে টিপু রমজানকে নিহতের ভাই পিচ্চি আলোর লোক হিসেবে প্রমান জরতে চাইছে৷ কিন্তু ইতিমধ্যে সিক্সটিন বাংলার অনুসন্ধানে হত্যা মামলার প্রধান আসামী রমজানকে ২নং আসামী মোস্তাফা কামাল টিপু নেতৃত্বে মিছিলে অংশ তথ্য মিলেছে৷ এছাড়া মামলার ৩নং আসামী মাহবুব প্রকাশ ইয়াবা মাবুর সাথে একত্রে ভূড়িভোজের চিত্র এসেছে সিক্সটিন বাংলার হাতে৷

কে এই টিপু ? কয় নেতার অনুসারি ? 

মোস্তাফা কামাল টিপু মোগল টুলি মগপুকুর পাড়ের ছবুর মাস্টারের ছেলে৷ নিজেকে ডবলমুরিং থানা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি পরিচয়ে নগরীর একাধিক সিনিয়র আওয়ামী লীগ নেতার অনুসারি হিসেবে সময় সময় ব্যানার পাল্টেছে মোস্তাফা কামাল টিপু৷ নগরীর ২৭ নং ওয়ার্ড আগ্রাবাদ ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর এইচ এম সোহেলের হাত ধরে সদ্য সাবেক মেয়র আ জ ম নাছিরের অনুসারি পরিচয়ে আগ্রাবাদ, মোগল টুলি, সিডিএ মসজিফ কলোনী, সিডিএ আবাসিক সহ আশপাশের এলাকায় আধিপত্য বিস্তার করতো৷ সেই সময় টিপুকে নগর ভবনে কিংবা সাবেক মেয়রের বাসা সহ বিভিন্ন সভা সমাবেসে দেখা যেত৷ সেই সময় মোগল টুলীর সদ্য সাবেক কাউন্সিলর, শীর্ষ সন্ত্রাসী আব্দুল কাদের প্রকাশ মাছ কাদেরের সাথে জোট বাঁধে৷ পরে মাছ কাদেরের সাথে সম্পর্ক অবনতি হলে নগরীর আরেক শীর্ষ সন্ত্রাসী সাইফুল আলম লিমনকে সাথে নিয়ে আগ্রাবাদ বাণিজ্যিক এলাকায় আধিপত্য বিস্তার বজায় রাখে টিপু৷

সাবেক মেয়র আ জ ম নাছির, সাংসদ এম এ লতিফ, মেয়র প্রার্থী রেজাউল করিম’র সাথে টিপু৷ ওপরে বাম পাশের শিক্ষা উপমন্ত্রীর নামে পোস্টার ছাপিয়ে টিপুর আত্মপ্রচার৷

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে আ জ ম নাছির মনোনয়ন পাচ্ছেনা এমন আন্দাজ করে মোস্তাফা কামাল টিপু স্থানীয় সংসদ সদস্য এম এ লতিফের সাথে সম্পর্ক গড়ে তোলে। আসন্ন নির্বাচনে আওয়ামী লীগ থেকে রেজাউল করিম মনোনয়ম পেলে রাতারাতি দলবল নিয়ে টিপু হাজির হয় রেজাউল করিমের বহদ্দার হাটের বাড়িতে৷ ইতিমধ্যে নগর যুবলীগের আহবায়ক মহিউদ্দিন বাচ্চুর গ্রুপে নাম লিখিয়ে নিজেকে নগর যুবলীগের নেতা পরিচয় দিতে শুরু করে টিপু৷ মহিউদ্দিন বাচ্চুকে অতিথি করে ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থী নজরুল ইসলাম বাহাদুরের পক্ষে ভিড়ে টিপু৷ চসিক নির্বাচনে মোগল টুলি এলাকায় আওয়ামী লীগ দলীয় কাউন্সিলর প্রার্থী নজরুল ইসলাম বাহাদুরের হাতধরে মোস্তাফা কামাল টিপু উপ-মন্ত্রী মহিউল হাসান নওফেলের সাথে সম্পর্ক গড়ার চেষ্টা চালালেও সেভাবে সফল হতে পারেনি ৷ তবে বিভিন্ন দিবসে আগ্রাবাদ সহ আশপাশের এলাকায় শিক্ষা উপমন্ত্রীর ছবি সম্বলিত ব্যানার পোস্টারে মোস্তাফা কামাল টিপুর পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা জানাতে দেখা গেছে৷

চট্টগ্রাম নগর যুবলীগের আহ্বায়ক মহিউদ্দিন বাচ্চু ও সাইফুল আলম লিমন’র সাথে টিপু গ্রুপ৷

নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি জানান, মোস্তাফা কামাল টিপুর ছেলে পেলেদের অত্যাচারে আমরা অতিষ্ঠ৷ সেই আজ এই গ্রুপ তো কাল আরেক গ্রুপ৷ কিন্তু কারো সাথেই তার সম্পর্ক ঠিক থাকেনা৷ সর্বশেষে আসন্ন কাউন্সিলর নির্বাচন নিয়ে মোগল টুলি ওয়ার্ডের সদ্য সাবেক কাউন্সিলর আব্দুল কাদেরের প্রধান প্রতিদ্বন্দি নজরুল ইসলাম বাহাদুরের পক্ষ নিয়েছে টিপু৷ এই নির্বাচনলে ঘিরে আজ অব্দি একাধিকবার সংঘর্ষে জড়িয়েছে কাদের ও বাহাদুর গ্রুপ৷ বিপুল পরিমান কিশোর যুবকদের নিজ গ্রুপে এনে ডবল মুরিং থানা এলাকা নিয়ন্ত্রন করছে টিপু৷

ট্যাগ :