বাংলাদেশ, বৃহস্পতিবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২১

মোটা অংকের কমিশনের জালে আটকে রেখে অর্থ আত্মসাৎ: এলএ শাখার নিয়ন্ত্রণে দালাল চক্র


প্রকাশের সময় :১১ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ৭:০৬ : অপরাহ্ণ

দালালের চাহিদামতে কমিশন প্রদান করা নাহলে ভুয়া মালিক সাজিয়ে প্রকৃত ভূমি মালিকের পুরো টাকাই আত্মসাৎ করার তথ্য মিলেছে। চট্টগ্রামের সরকারি নানা প্রকল্পের জন্য জমি অধিগ্রহণের দায়িত্বে থাকা এলএ শাখার কর্মকর্তারা দালালের মাধ্যমে মোটা দাগের কমিশনের জালে আটকে রেখে অর্থ আত্মসাৎ করার অভিযোগ রয়েছে।

এরকম কয়েকটি ঘটনায় কয়েকজন ভুক্তভোগী দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক), বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসকের দফতরে লিখিত অভিযোগ করা হলেও তদন্তের দায়িত্ব পেয়েছেন ওই শাখার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক।
বিষয়টি তদন্তের জন্য সরকারি একাধিক কর্মকর্তা, দালাল ও অভিযোগকারীসহ  গত রোববার (২৯ শে আগস্ট) বৈঠক করেছেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এলএ) মাসুদ কামাল।
দুদকে দায়ের করা অভিযোগ তদন্তের জন্য সাবেক ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তা (বর্তমান) সিনিয়ির সহকারী সচিব বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল, মোনেম বিজনেস, সিআর দত্ত রোড ঢাকায় কর্মরত কায়সার খসরু, চট্টগ্রাম এলএ শাখার অতিরিক্ত ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তা হামিদুল হক, সার্ভেয়ার মো. মুক্তার হোসেন, আবু কাউসার সোহেল, সাবেক সার্ভেয়ার আবদুর রব (বর্তমানে নোয়াখলীর চাটখীল উপজেলা ভূমি অফিসে কর্মরত), এলএ শাখার দালাল আনোয়রা থানার চাতরী গ্রামের মৃত জাফর আহমদের ছেলে নবী হোসেন ও মৃত শেখ আহমদের ছেলে নুরুল কবির ও মৃত মনির আহমদের ওয়ারিশসহ ১৭ জনকে উপস্থিত হওয়ার কথা বললেও কায়সার খসরু, হামিদুল হক, আবদুর রব, নবী হোসেন, নুরুল কবির ও মৃত মনির আহমদের ছেলে মোহাম্মদ হোসেন উপস্থিত হয়ে তাদের স্বপক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করেন, বাকিরা অনুপস্থিত ছিলেন।
একটি অভিযোগের সূত্রে জানা যায়, কর্ণফুলী নদীর তলদেশে বহু লেন নির্মাণ প্রকল্পে এলএ মামলা নং ৩০/২০১৬-১৭ ম‍ূলে ক্ষতিপূরণের টাকা প্রকৃত ভূমি মালিককে না দিতে নানারকম ফন্দি-ফিকির করতে থাকে। একপর্যায়ে এলএ অফিসের দালালের মাধ্যমে ৫০ শতাংশ কামন দাবি করে। ভূমি মালিকের আমমোক্তার গ্রহীতা অভিযোগকারী কমিশনের টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে এলএ শাখার কর্মকর্তা, দালাল ও অন্য অভিযুক্ত ব্যক্তিদের সাথে আঁতাত করে অবৈধভাবে বেআইনি রোয়েদাদ প্রস্তুত করে ক্ষতিপ‍ূরণের টাকা প্রকৃত ভূমি মালিককে না দিয়ে অন্য লোককে দিয়ে দেন। ফলে প্রকৃত পাওনা থেকে বঞ্চিত হন অভিযোগকারী।

এ ব্যপারে চট্টগ্রামের এলএ শাখার দায়িত্বে থাকা অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মাসুদ কামাল কে একাধিকবার ফোন করলেও তিনি ফোন রিসিভ না করায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

অভিযোগের তদন্ত সম্পর্কে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকের (এলএ) দফতরে বৈঠকের বিষয়টি স্বীকার করে একজন অভিযোগকারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, আমমোক্তারনামামূলে আমি অধিগ্রহণকৃত জমির প্রকৃত হকদার কিন্তু সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আমাকে পাত্তাই দেন না। উল্টো দালালের মাধ্যমে আমার কাছে ৫০ শতাংশ কমিশন দাবি করেন। কমিশন দিতে রাজি না হওয়ায় আমার পুরো টাকাটাই আত্মসাৎ করার চেষ্টা করছেন। আমি দুদক, বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসকের দফতরে লিখিত অভিযোগ করেছি। বৈঠকেও যাবতীয় কাগজপত্রসহ বক্তব্য উপস্থাপন করেছি।
বৈঠকে কি সিদ্ধান্ত হয়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, যারা উপস্থিত ছিলেন তাদের বক্তব্য শুনেছেন। তবে তাৎক্ষণিক কোনো সিদ্ধান্ত দেননি, ন্যায়বিচার না পেলে আদালতে যেতে বাধ্য হব।

ট্যাগ :