বাংলাদেশ, বুধবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২১

রেলওয়ের কর্মচারীদের অপরাধ বেড়েই চলেছে লাগামহীন ভাবে


প্রকাশের সময় :১৩ জুলাই, ২০২১ ৩:১০ : অপরাহ্ণ

সফটওয়্যার জালিয়াতি করে বেতনের অর্থ আত্মসাৎ, মালামাল চুরি সহ নানান অপরাধে জড়িয়ে পড়ছেন রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের কর্মচারীরা। অপরাধে জড়িয়ে গত দুই মাসেই রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর (আরএনবি) হাতে গ্রেপ্তার হয়েছেন অন্তত ১০ জন কর্মচারী। অধীনস্থ কর্মচারীরা একের পর এক অপরাধে জড়িয়ে পড়ায় প্রশ্ন উঠেছে রেলের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের দায়িত্ব পালন নিয়ে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন- রেলের গোডাউনগুলোতে মালামাল সংরক্ষণ ব্যবস্থা ডিজিটাল না করা, সীমানা প্রাচীর নষ্ট হয়ে গোডাউনগুলো অরক্ষিত হয়ে পড়া, চুরির প্রতিটি ঘটনা তদন্ত করে দায়ীদের শনাক্ত না করা, চুরি করতে গিয়ে যারা ধরা পড়েন- তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা না করাসহ নানা কারণে রেলে চুরির ঘটনা বেড়েছে। আর এতে জড়িয়ে পড়ছেন রেল কর্মচারীরা।
সূত্র জানায়- গত ১০ জুলাই রাতে চট্টগ্রাম পুরাতন রেলস্টেশন এলাকায় বিটি-১ স্পেশাল ট্রেন থেকে চুরি করা ৫০০ লিটার ডিজেলসহ ৩ রেল কর্মচারীকে গ্রেপ্তার করে রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনী (আরএনবি)। তারা হলেন সহকারী লোকো মাস্টার সুমন শীল, বিটি-১ স্পেশাল ট্রেনের গার্ড আমজাদ হোসেন এবং কদমতলী রেল গেটের ফ্ল্যাগ ম্যান মোহাম্মদ শহীদ।
গ্রেপ্তার ৩ রেল কর্মচারী আরএনবির জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন- শুধু তারা নন, ডিজেল চুরির সঙ্গে সহকারী লোকো মাস্টার কামরুজ্জামান পাটোয়ারী এবং ট্রেন পরিচালক নজরুল ইসলামও জড়িত ছিলেন। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার ৩ রেল কর্মচারী এবং জিজ্ঞাসাবাদে নাম আসা আরো ২ রেল কর্মচারীসহ মোট ৫ রেল কর্মচারীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
১০ জুলাই রাতে রেলওয়ের মার্শাল ইয়ার্ডে আরেকটি চুরির ঘটনা ঘটে। ইয়ার্ডের গোডাউন থেকে বৈদ্যুতিক জেনারেটরে ব্যবহৃত ৩৯টি ব্যাটারি চুরির সময় ২ রেল কর্মচারীসহ ৪ জনকে গ্রেপ্তার করে আরএনবি। তারা হলেন- রেলের খালাসি জাবেদ হোসন, মেকানিক্যাল ফিটার আনোয়ার হোসেন, পিকআপ চালক মোহাম্মদ মামুন এবং সহকারী মোহাম্মদ পারভেজ।

এর আগে গত ১ জুন ১০ কেজি বৈদ্যুতিক তামার তার চুরির দায়ে রেলওয়ের বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মচারী নুরুল আজিম মজুমদার, এরশাদ আলী এবং রাজীব সরকার গ্রেপ্তার হন। তার একদিন আগে ৩১ মে ৫০ লিটার ডিজেল চুরি করে দোকানে বিক্রির সময় আরএনবির হাতে গ্রেপ্তার হন রেলওয়ের সংকেত বিভাগের ডিজেল মেকানিক মাহাবুবুল আলম।
চলতি বছর রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলে সবচেয়ে বড় অপরাধের ঘটনাটি ঘটে গত মে মাসে। সফটওয়্যার জালিয়াতি করে রেল কর্মচারীদের বেতন-ভাতার প্রায় কোটি টাকা আত্মসাতের দায়ে ৮ মে আরএনবির হাতে আটক হন রেলের অর্থ বিভাগের জুনিয়র হিসাব কর্মকর্তা ফয়সাল মাহবুব। মামলা দায়েরের পাশাপাশি দুদক এ জালিয়াতির তদন্ত করছে।
রেল কর্মচারীদের একের পর এক অপরাধে জড়িয়ে পড়ার বিষয়ে জানতে চাইলে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক (জিএম) জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, কোনো কর্মচারী অপরাধে জড়িয়ে পড়ার বিষয়টি জানার সঙ্গে সঙ্গেই আমরা ব্যবস্থা নিচ্ছি। চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হচ্ছে। মামলা দেওয়া হচ্ছে।
রেলের এই শীর্ষ কর্মকর্তা আরো বলেন, কর্মকর্তা বা কর্মচারী- কেউ অপরাধ বা অনিয়মে জড়ালে তার বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করছি আমরা। এখন পর্যন্ত যাদের বিরুদ্ধে অপরাধ এবং অনিয়মে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেছে তাদের সবার বিরুদ্ধেই কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর (আরএনবি) চিফ ইন্সপেক্টর মো. সালামত উল্লাহ বলেন, রেলের সম্পদ রক্ষায় অতন্দ্র প্রহরী হয়ে কাজ করছে আরএনবি। আরএনবি সদস্যদের নিয়মিত অভিযানের কারণে রেলের মালামাল চুরিসহ নানা অপরাধে জড়িতরা ধরা পড়ছেন। এরমধ্যে যারা রেল কর্মচারী তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে আমরা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অবহিত করি। তারা ব্যবস্থা নেন, জানালেন সালামত উল্লাহ।

ট্যাগ :