বাংলাদেশ, শুক্রবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২১

হাজারী গলিতে টাকার বিনিময়ে করোনার দুষ্প্রাপ্য টিকা: তদন্তে চসিক এর ০৫ সদস্যের কমিটি


প্রকাশের সময় :১২ জুলাই, ২০২১ ২:৩৫ : পূর্বাহ্ণ

নগরীর ঔষধের ডিপো হিসেবে খ্যাত হাজারী গলিতে বলরাম চক্রবর্তী নামের এক ব্যক্তি টাকার বিনিময়ে করোনার দুষ্প্রাপ্য টিকা দিচ্ছেন, এমন অভিযোগ ওঠার পর তা খতিয়ে দেখতে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক)।

চ.সি.ক এর অস্থায়ী পরিচ্ছন্নতা কর্মী হিসেবে পরিচিত বলরাম চক্রবর্তী বলয় হাজারী গলির একটি স্থানে টিকাগ্রহীতাদের প্রথমে জড়ো করেন। পরে নিয়ে যাওয়া হয় একটি গোপনকক্ষে এরপর নিজ হাতেই দিচ্ছেন করোনার টিকার ‘দ্বিতীয় ডোজ’।
চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে রয়েছে বলরামের একাধিক ‘সোর্স’। তারা হাসপাতালে টিকা মারতে না পারা বিত্তবান ও প্রবাসীদের টার্গেট করে। ওই ‘সোর্স’রা কৌশলে টিকা ম্যানেজ করে দেবে এমন লোভ দেখিয়ে টার্গেট করা লোকদের বলয়ের কাছে সোপর্দ করে। এর বাইরেও বলয়ের কাছ থেকে টিকা নেওয়া সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন অফিসের অনেক কর্মকর্তাও একপর্যায়ে হয়ে উঠেছেন বলয়ের সোর্স। জানা গেছে, বলরাম চক্রবর্তী বলয়ের টিকাগ্রহীতাদের বেশিরভাগই সরকারি কর্মকর্তা ও প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী। তাদের মাধ্যমে তিনি পরবর্তীতে আরও গ্রাহক পেয়েছেন বলেও তথ্যও মিলেছে।

রোববার (১১ জুলাই) গঠিত কমিটিকে তিন দিনের মধ্যে মেয়র বরাবর প্রতিবেদন দাখিল করতেও নির্দেশনা প্রদান করা হয়। এ বিষয়ে অফিস আদেশ জারি করেন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ শহীদুল আলম।
চসিকের সচিব খালেদ মাহমুদকে আহবায়ক করে গঠিত তদন্ত কমিটির সদস্য সচিব করা হয় স্পেশাল ম্যজিস্ট্রেট জাহানারা ফেরদৌসকে। কমিটির অন্য সদস্যরা হচ্ছেন চট্টগ্রামের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সুমনী আক্তার, চসিকের আইন কর্মকর্তা মো. জসিম উদ্দিন, সিভিল সার্জন কার্যালয়ের মেডিকেল অফিসার ডা. ওয়াজেদ চৌধুরী অভি।

হাজারী গলি এলাকায় বলরাম চসিকের ‘অস্থায়ী পরিচ্ছন্ন কর্মী’ বলে পরিচিত। তবে বলরাম চসিকের কর্মচারী নন বলে নিশ্চিত করেছেন চসিকের উপ-প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা মো. মোরশেদুল আলম চৌধুরী।

হাজারী গলিতে টিকা মারার অভিযোগ ওঠার পর গত ৬ জুলাই চসিকের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. সেলিম আকতার চৌধুরী বলেন, সিটি কর্পোরেশনের তত্ত্বাবধানে যেসব টিকা দেয়া হয় তার নথিপত্র সংরক্ষিত থাকে। আমাদের কাছে টিকার সব ভায়ালের হিসাব আছে। হিসাবের বাইরে কিছু নাই। তাই সিটি কর্পোরেশনের তত্ত্বাবধানে দেয়া টিকা বাইরে যাওয়ার সুযোগ নাই।

তিনি আরও বলেন, হাজারী গলিতে টিকা দেয়ার যে কথা বলা হচ্ছে তা যদি সঠিক হয় তাকে আইনের আওতায় আনা উচিত। সে যে হোক না কেন। সে টিকা পেয়েছে কোথায়? ভাওয়ালে পানি ঢুকিয়ে মানুষকে মারছেন কি না সেটাও তো দেখা দরকার। তাছাড়া মানুষই বা ওখানে টিকা মারতে যাবেন কেন? সরকারি ভাবে ছাড়া অন্য কোথাও তো টিকা মারার ব্যবস্থা নাই। তাহলে দুই পক্ষই সমান অপরাধী।

ট্যাগ :