বাংলাদেশ, বৃহস্পতিবার, ১৭ জুন ২০২১

শিরোনাম

ঈদে সাম্য ও সম্প্রীতির শপথ নেবো আমরা: প্রধানমন্ত্রী


প্রকাশের সময় :১৩ মে, ২০২১ ৪:০৪ : অপরাহ্ণ

পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের সবাইকে শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেছেন, আজকের দিনে আমরা হিংসা-বিদ্বেষ, ঘৃণা, লোভ, অহমিকা, ক্রোধ, অহঙ্কারসহ যাবতীয় কুপ্রবৃত্তি থেকে নিজেদের মুক্ত করে সাম্য, ভ্রাতৃত্ব, ঐক্য, সৌহার্দ্যও সম্প্রীতির বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার শপথ নেবো। তিনি বলেন, ঈদের দিন আনন্দের দিন। মনের সব কালিমা দূর করে, মানুষে মানুষে ভেদাভেদ ভুলে একে অপরের সঙ্গে মিলিয়ে যাওয়ার মধ্যেই ঈদের আনন্দ।

গণভবন থেকে আজ বৃহস্পতিবার (১৩ মে) সন্ধ্যার পর প্রধানমন্ত্রী গণভবনের কর্নার থেকে এ ভাষণ দেন। এ সময় তিনি সবাইকে যার যার অবস্থানে থেকে স্বাস্থ্যবিধি ও সামাজিক দূরত্ব মেনে ঈদ উদযাপনের আহ্বান জানান।

ভাষণের শুরুতেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের আপামর জনগণসহ বিশ্ববাসীকে পবিত্র ঈদুল ফিতরের আন্তরিক শুভেচ্ছা জানান। তিনি বলেন, বছর ঘুরে আবার এসেছে পবিত্র ঈদুল ফিতর। ‘‘ও মন রমজানের ঐ রোজার শেষে এলো খুশির ঈদ/তুই আপনাকে আজ বিলিয়ে দে, শোন আসমানী তাগিদ” – জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের কালজয়ী এই গান গেয়ে প্রধানমন্ত্রী স্বাগত জানান পবিত্র ঈদুল ফিতরকে। তিনি সবার উদ্দেশে উচ্চারণ করেন- ঈদ মোবারক।

পবিত্র ঈদুল ফিতরের এই দিন উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী গভীর শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। শ্রদ্ধা জানান জাতীয় চার নেতার প্রতি। স্মরণ করেন মুক্তিযুদ্ধের ৩০ লাখ শহিদ এবং ২ লাখ নির্যাতিত মা-বোনকে। শ্রদ্ধা জানান সকল বীর মুক্তিযোদ্ধাকে। তিনি স্মরণ করেন ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্টের কাল্রাতে ঘাতকদের হাতে নিহত তার মা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব, তিন ভাই- মুক্তিযোদ্ধা ক্যাপ্টেন শেখ কামাল, মুক্তিযোদ্ধা লেফটেন্যান্ট শেখ জামাল ও দশ বছরের ছোট্ট শেখ রাসেলকে- কামাল ও জামালের নবপরিণীতা বধু- সুলতানা কামাল ও রোজী জামাল, তার চাচা মুক্তিযোদ্ধা শেখ আবু নাসেরসহ সকল শহিদকে।

এরপরই দেশের করোনা পরিস্থিতি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী কথা বলেন। তিনি বলেন, গত এক বছরের বেশি সময় ধরে বিশ্ব এক গভীর সঙ্কটের মধ্যে দিয়ে অতিবাহিত হচ্ছে। কোভিড-১৯ নামক এক মরণঘাতী ব্যাধি মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে। দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার ক্ষমতাসম্পন্ন এই ভাইরাস একদিকে যেমন অগণিত মানুষের জীবন কেড়ে নিচ্ছে, অন্যদিকে ক্ষতিসাধন করছে মানুষের জীবন-জীবিকার। আমাদের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা এবং অর্থনীতির উপর ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে এই ভাইরাস।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, গত বছরের শেষদিকে যখন বিশ্বব্যাপী সংক্রমন অনেকটা কমতে শুরু করেছিল, তখন সকলের সঙ্গে আমরাও আশান্বিত হয়েছিলাম যে বিশ্ববাসী বুঝি এই মরণঘাতী ভাইরাস থেকে মুক্তি পেতে যাচ্ছে। কিন্তু মার্চের মাঝামাঝি থেকে দ্বিতীয় ঢেউ আমাদের সকল পরিকল্পনা ও প্রত্যাশাকে নৎস্যাৎ করে দেয়। মানুষের মাধ্যমে এই ভাইরাস ছড়ায়। কাজেই জনসমাগম এড়াতে না পারলে এ রোগকে নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব নয়। এ কারণে কষ্ট হবে জেনেও আমরা বাধ্য হয়েছি মানুষের স্বাভাবিক চলাচলের উপর বিধিনিষেধ আরোপ করতে। দোকান-পাট, শপিং মলসহ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলি স্বাস্থ্যবিধি মেনে চালু রাখতে হচ্ছে। একই কারণে গণপরিবহন চলাচলের উপরও বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।

শেখ হাসিনা বলেন, এমনি এক অস্বস্তিকর পরিস্থিতির মধ্যে এবারও আমাদের ঈদুল ফিতর উদযাপন করতে হচ্ছে। আমরা ঈদ উদযাপন করবো, তবে অবশ্যই স্বাস্থ্যবিধি মেনে। কোনভাবেই এই ঈদ উদযাপন যাতে করোনাভাইরাস সংক্রমণ বৃদ্ধির উপলক্ষ হয়ে না উঠে, সেদিকে আমাদের খেয়াল রাখতে হবে। জনগণের প্রতি অনুরোধ: আপনারা আবেগের বশবর্তী হয়ে আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে ঈদের ছুটি কাটাতে যাবেন না। অনেকের কোন বাহ্যিক লক্ষণ না থাকায় আপনি বুঝতে পারবেন না আপনার পাশের ব্যক্তিটিই করোনাভাইরাস বহন করছে। এরফলে আপনি যেমন করোনাভাইরাসের ঝুঁকিতে পড়বেন, তেমনি আপনার নিকটাত্মীয় বা পাড়াপ্রতিবেশিকে ঝুঁকির মুখে ফেলবেন। মনে রাখবেন, সবার উপরে মানুষের জীবন। বেঁচে থাকলে আসছে বছর আবার আমরা আনন্দঘন পরিবেশে ঈদ উদযাপন করতে পারবো। এই ভাইরাসের বিস্তার প্রতিরোধে গত বছরের মত এ বছরও ঈদগাহ ময়দানে ঈদের জামাত অনুষ্ঠানে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। মসজিদে মসজিদে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে ঈদের নামাজ আদায় করতে হবে। আসুন, আমরা সবাই যে যেখানে আছি সেখান থেকেই ঈদের আনন্দ উপভোগ করি।

ট্যাগ :