বাংলাদেশ, শুক্রবার, ১৪ মে ২০২১

শিরোনাম

করোনায় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সচলে বিকল্প চিন্তা: শুধু সংক্রমণ এলাকায় লকডাউনের পরামর্শ


প্রকাশের সময় :২২ এপ্রিল, ২০২১ ৯:০৭ : অপরাহ্ণ

করোনাকালেও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সচল রাখার স্বার্থে সারা দেশে একযোগে লকডাউন না-দিয়ে সংক্রমণের মাত্রাভেদে অঞ্চল বা এলাকাভিত্তিক দেওয়ার প্রস্তাব করেছেন দেশের শীর্ষস্থানীয় অর্থনীতিবিদ ও ব্যবসায়ীরা। তারা বলেছেন, করোনার সংক্রমণ রোধে সারা দেশে একসঙ্গে লকডাউন দিলে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড স্থবির হয়ে যায়, থমকে যায় ব্যবসা-বাণিজ্যের গতি। কমে যায় টাকার প্রবাহ। এতে মানুষের আয়ও কমে। স্বল্প আয়ের মানুষ বড় বিপাকে পড়ে। এসব ভোগান্তি এড়িয়ে করোনার মধ্যেও অর্থনীতিকে সচল রাখতে এই বিকল্প প্রস্তাব দিয়েছেন তারা। এছাড়া ঝুঁকিমুক্ত এলাকায় পুরোদমে স্বাস্থ্যবিধি মেনে ব্যবসা-বাণিজ্য চালানোর প্রস্তাবও দেওয়া হয়। তৃতীয় ঢেউ মোকাবিলায় এখনই প্রস্তুতি নেওয়া অপরিহার্য হয়ে পড়েছে। করোনার ভয়াল থাবায় গত বছর বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি কমে সাড়ে ৪ শতাংশ নেতিবাচক হয়েছে। বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধিও কমেছে। বিশ্বের অনেক দেশে এখন চলছে করোনার তৃতীয় ঢেউ। বাংলাদেশে চলছে দ্বিতীয় ঢেউ। প্রথম ঢেউয়ের তুলনায় দ্বিতীয় ঢেউয়ের থাবা আরও ভয়াবহ।

বিশ্লেষকরা বলেছেন, করোনার সংক্রমণ শিগগির থামবে না। এটি চলমান থাকবে। সে কারণে এর সংক্রমণ বিবেচনায় নিয়েই অর্থনীতিকে সচল রাখতে হবে। চালাতে হবে ব্যবসা-বাণিজ্য। নির্বাহ করতে হবে মানুষের জীবন-জীবিকা। এর আলোকে সরকারকে নীতিনির্ধারণ করতে হবে।

এসব ক্ষেত্রে সরকারের সামনে রয়েছে ত্রিমুখী চ্যালেঞ্জ। একদিকে করোনার সংক্রমণের বিস্তার ঠেকানো, অন্যদিকে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সচল রাখা। তৃতীয়ত, বৈদেশিক বাণিজ্য আরও বাড়ানো। তাহলেই অর্থনীতিকে সামনের দিকে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে। এর মাধ্যমে দারিদ্র্য বিমোচন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা যাবে।

প্রথম ঢেউয়ের মধ্যেই অনেক দেশ করোনা নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন ধরনের কৌশল উদ্ভাবন করেছে। দ্বিতীয় ও তৃতীয় ঢেউয়ে সেগুলোর প্রয়োগে সুফল পেয়েছে।

এর মধ্যে চীন প্রথম ঢেউয়ের পর দ্বিতীয় ঢেউ আসতেই দেয়নি। জার্মানি, সুইডেন, নিউজিল্যান্ড, যুক্তরাজ্য তৃতীয় ঢেউ মোকাবিলা করছে। মালয়েশিয়া দ্বিতীয় ঢেউ সফলভাবে মোকাবিলা করছে। ভারতে করোনা ভয়াবহ রূপ নিলেও পুরো দেশে লকডাউন দেওয়া হয়নি। সীমিত আকারে রাজ্যভেদে লকডাউন দেওয়া হয়েছে।

এসব প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশেও করোনার বিস্তার রোধ করে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সচল রাখার জন্য বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তাব এসেছে। দেশের শীর্ষস্থানীয় অর্থনীতিবিদ, ব্যবসায়ী ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোও একই ধরনের অভিমত দিয়েছেন।

তারা বলেছেন, করোনা আছে, থাকবে। এটি রেখেই অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড এগিয়ে নিতে হবে। এ জন্য এখন থেকে আর সারা দেশে একসঙ্গে লকডাউন নয়। যেখানে সংক্রমণ সেখানেই লকডাউন। সংক্রমণের বাইরে দেশের অন্যান্য স্থানে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড স্বাভাবিক রাখতে হবে এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে করোনার সংক্রমণ প্রতিরোধ করতে হবে। বাড়াতে হবে সচেতনতা।

ওইসব দেশের অভিজ্ঞতা পর্যালোচনা করে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ড. হোসেন জিল্লুর রহমান করোনার মধ্যে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সচল রাখতে যেখানে সংক্রমণ সেখানে লকডাউন করার প্রস্তাব দিয়েছেন। এজন্য তিনি একটি ‘স্মার্ট লকডাউন’ নীতিমালা তৈরি করেছেন, যা গত ১২ এপ্রিল সংবাদ সম্মেলন করে প্রকাশ করেছেন।

ড. হোসেন জিল্লুর রহমান স্বাস্থ্য অধিকার সংক্রান্ত বিভিন্ন সংগঠন ও পেশাজীবীদের জোট হেলদি বাংলাদেশের আহ্বায়কও। তিনি বলেন, কোথায় করোনার সংক্রমণ কতটুকু, সে তথ্য সরকারের কাছে রয়েছে। সে অনুযায়ী সংক্রমণ রোধে অঞ্চল বা এলাকাভেদে লাকডাউন আরোপ করা যেতে পারে। এর মধ্যে করোনা ছড়ায় এমন সব কর্মকাণ্ড বন্ধ রেখে বাকি সব সীমিত আকারে চালু রাখার প্রস্তাব করেছেন তিনি। একইসঙ্গে মানুষের যাতে ভিড় না-হয়, সেজন্য বিকল্প ব্যবস্থা করতে হবে। এজন্যই তিনি স্মার্ট লকডাউনের প্রস্তাব করেছেন।

স্মার্ট লকডাউনের নীতিমালার আওতায় সংক্রমণপ্রবণ এলাকায় আন্তঃজেলা গণপরিবহণে বন্ধ রেখে শ্রমিকদের বিকল্প সহায়তা করতে হবে। মার্কেট বা শপিংমল একেবারে বন্ধ না-রেখে দিনের নির্দিষ্ট সময় খোলা রেখে ভিড় যাতে না-হয়, সে বিষয়টি মার্কেট কর্তৃপক্ষকে নিশ্চিত করতে হবে।

সংক্রমণ এলাকার বিনোদন কেন্দ্রগুলো বন্ধ রাখা যেতে পারে। যেসব সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে বাসায় বসে কাজের সুযোগ রয়েছে, সেগুলোয় ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ বা বাসায় বসে কাজ করার নীতি চালু করতে হবে।

 

ট্যাগ :