বাংলাদেশ, শনিবার, ২৪ জুলাই ২০২১

শিরোনাম

পূর্ব বাকলিয়ায় সন্ত্রাসী হামলা ও গুলিবর্ষণকারীরা এখনও ধরাছোঁয়ার বাইরে


প্রকাশের সময় :১৫ জুন, ২০২১ ৮:৩৯ : অপরাহ্ণ

নগরীর ১৮ নং পূর্ব বাকলিয়া ওয়ার্ড এলাকায় কবরস্থানের জায়গাতে সাইনবোর্ড লাগানোকে কেন্দ্র করে গুলিবর্ষণ ও সংঘর্ষের ঘটনার মূল হোতা ইয়াকুব আলীকে এখনও গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। তার ছয়জন সহযোগী ধরা পড়লেও পুলিশ জানিয়েছে, ইয়াকুব আলী ও তার অন্য সহযোগীরা গা ঢাকা দিয়ে আছেন। তবে হামলাকারীদের গ্রেপ্তার করতে অভিযান চলমান রয়েছে।

গত শুক্রবার (১১ জুন) বেলা সাড়ে এগারটার দিকে পূর্ব বাকলিয়া আবদুল লতিফ হাটখোলা এলাকার বড় মৌলভি কবরস্থানে ওই ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত ২০ জন গুরুতর আহত হয়। আহতদের মধ্যে গুলিবিদ্ধ বেশ কয়েকজন এখনো চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

হামলার ছয়দিন অতিবাহিত হলেও মামলার মূল আসামিরা ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকায় স্থানীয়দের মাঝে বিরাজ করছে চাপা ক্ষোভ। ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী হামলাকারী, অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশও করেছে। তবে পুলিশ বলছে, ঘটনার মূল হোতা ইয়াকুব আলীসহ অন্যদের ধরতে অভিযান অব্যহত রয়েছে, অতি শীঘ্রই হামলাকারীদের গ্রেপ্তার করা হবে। ঘটনার নেতৃত্বে ছিলেন সিএমপি’র তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী ইয়াকুব আলী সহ আলী আকবর, উসমান, মোঃ সেলিম, মাসুদ, জসিম, মহিউদ্দিন, জনি, সাদ্দাম, রনি, জসিম উদ্দিন, ওয়াসিম সহ আরও ৪০/৫০ জন বহিরাগত সন্ত্রাসী অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে অতর্কিত হামলা চালিয়েছিল বলে জানা যায় এলাকার সুত্রে।
চাকসুর প্রথম ভিপি প্রয়াত মুক্তিযোদ্ধা মোঃ ইব্রাহীমের বাবা সৈয়দুল হক ১৯৫১ সালে বাকলিয়া ১৮ নং ওয়ার্ডের আব্দুল লতিফ হাটখোলা এলাকায় জনস্বার্থে কবরস্থান ও হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার জন্য ৭৩ শতক জমি দান করেন। সেখানে একটি হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা ছাড়াও বাকি জায়গা দীর্ঘদিন ধরে কবরস্থান হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছিল।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, দেড় কেজি হিরোইনসহ আটক হয়ে দীর্ঘদিন জেল খেটে বের হওয়া এলাকার চিহ্নিত অস্ত্রধারী ও তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী ইয়াকুব আলী ওই কবরস্থানে লাশ দাফনকারীদের কাছ থেকে চাঁদা আদায় করে আসছে। এ নিয়ে বিগত কিছুদিন ধরে এলাকাবাসীর মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
বিষয়টি মুক্তিযোদ্ধা ইব্রাহীমের পরিবারের সদস্যদের নজরে আসলে পরিবারের সদস্য ও এলাকাবাসী যৌথভাবে কবরস্থানে গত ১১ই জুন জুমাবারে সাইনবোর্ড লাগাতে যায়। আর এতেই ক্ষিপ্ত হয়ে সন্ত্রাসী ইয়াকুব আলীর নেতৃত্বে অস্ত্রধারীরা এলাকাবাসীর ওপর অতর্কিত গুলিবর্ষণ ও হামলা চালায়।

ঘটনার শুরুতেই মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ ইব্রাহীমের বড় ছেলে আব্দুল্লাহ কাইছার লিটনসহ চারজন গুলিবিদ্ধ হন। পরবর্তীতে এলাকাবাসী জড়ো হয়ে প্রতিরোধের চেষ্টা করলে সন্ত্রাসীরা আরো ক্ষিপ্ত হয়ে ধারালো অস্ত্র ও লাঠিসোটা নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে। এতে আরো ১৬ জন মারাত্মক জখম হয়।
পরবর্তীতে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং আহতদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে প্রেরণ করে। গুলিবিদ্ধরা এখনও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছে বলেও জানা যায়।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরেই পূর্ব বাকলিয়ার হাটখোলা এলাকায় নিজস্ব বাহিনী গঠন করে জায়গা দখল, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিল ইয়াকুব। ২০১৯ সালে এক প্রবাসীকে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে অপহরণ করতে গিয়ে বাকলিয়া থানা পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছিল ইয়াকুব আলীর ৯ অনুসারী। এঘটনায় থানায় মামলাও হয়েছে। সম্প্রতি এলাকাবাসীর উপর নির্বিচারে গুলিবর্ষণ ও হামলার ঘটনায় আবারও আলোচনায় আসে ইয়াকুব আলীর নাম।

চাকসুর প্রথম ভিপি প্রয়াত ইব্রাহীমের ছেলে আব্দুল্লাহ কাইছার লিটন বলেন, আমার দাদা সৈয়দুল হক এলাকাবাসীর কথা চিন্তা করে ১৯৫১ সালে হাসপাতাল ও কবরস্থান করার জন্য ৭৩ শতক জমি দান করেন। সেখানে বর্তমানে একটি হাসপাতাল ও কবরস্থান আছে। এই কবরস্থানে এলাকাবাসী মৃত ব্যক্তিদের দাফন করার জন্য গেলে ইয়াকুব নিয়মিত চাঁদা আদায় করে। চাঁদা না দেয়ায় অনেকজনকে তার বাহিনীর হাতে নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে। আমরা এই চাঁদাবাজির প্রতিবাদ করতে গিয়ে গুলিতে গুরুতর আহত হয়েছি। আমরা এই অবস্থা থেকে পরিত্রাণ চাই।

এ বিষয়ে বাকলিয়া ১৮ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি আহমেদ ইলিয়াছ বলেন, ইয়াকুব একজন সন্ত্রাসী। তার অপকর্মে এলাকাবাসী অতিষ্ট। আমরা এই অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তার করার জন্য জোর দাবী জানাচ্ছি।
গুলিবর্ষণের ঘটনায় দায়েরকৃত মামলার বাদী সাইফুল্লাহ মাহমুদ বলেন, ‘আমি সন্ত্রাসী ইয়াকুব আলীকে প্রধান করে মোট ২১ জনকে এজাহার নামীয় এবং আরো অজ্ঞাত ৫০-৬০ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করি। এ মামলায় পিছনের সারির মাত্র ৫ আসামিকে পুলিশ গ্রেপ্তার করতে পারলেও ইয়াকুবসহ অস্ত্রধারী আসামিদের এখনো গ্রেপ্তার করতে পারেনি।
এ ব্যাপারে বাকলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রুহুল আমি জানান, কবরস্থানের জায়গাতে সাইনবোর্ড লাগানোকে কেন্দ্র করে গুলি ও সংঘর্ষের ঘটনার মূল হোতা ইয়াকুব আলীকে গ্রেপ্তারের জন্য আমরা তৎপর। এই হামলার ঘটনায় এ পর্যন্ত আমরা ৬ জনকে গ্রেপ্তার করেছি। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারের সবধরনের প্রচেষ্টা চলছে।

ট্যাগ :