বাংলাদেশ, শনিবার, ২৪ জুলাই ২০২১

শিরোনাম

সারাদেশের চার হাজার কমিউনিটি সেন্টারে প্রতি মাসে লোকসান শত কোটি টাকা:


প্রকাশের সময় :১৪ জুন, ২০২১ ৬:৩৫ : অপরাহ্ণ

করোনার সংক্রমণ রোধে দেশে চলছে লকডাউন। লকডাউনে বন্ধ থাকা প্রায় ৪ হাজার কমিউনিটি সেন্টারে প্রতি মাসে লোকসান হচ্ছে প্রায় শত কোটি টাকা। তাই, স্বাস্থ্যবিধি মেনে অর্ধেক আসন খালি রাখার শর্তে কমিউনিটি সেন্টারগুলো খুলে দেওয়ার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ কমিউনিটি সেন্টার কনভেনশন হল ও ক্যাটারিং অ্যাসোসিয়েশন (বিসিসিএ)।

রোববার (১৩ জুন) জাতীয় প্রেসক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানায় সংগঠনটি।

বিসিসিএর সভাপতি শাহ জাকির হোসেন বলেন, ‘করোনা পরিস্থিতিতে সামাজিক অনুষ্ঠান বন্ধ থাকায় ৪ হাজার প্রতিষ্ঠানের লোকসান হচ্ছে প্রতি মাসে প্রায় শত কোটি টাকা। এর সঙ্গে ডেকোরেটরের ক্ষতির পরিমাণ ১৫ থেকে ২০ কোটি টাকা। কমিউনিটি সেন্টার, ডেকোরেটর, ইভেন্ট ম্যানেজমেন্টসহ অন্যান্য খাতের আয়হীন প্রায় ৫ লাখ মানুষ মানবেতর জীবন যাপন করছেন। তাদের পরিবারে নেমে এসেছে বিপর্যয়কর পরিস্থিতি। অনেকের কাছে খাবার কেনার মতো টাকাও নেই। এ খাতে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ২০ লাখের মতো মানুষ জড়িত আছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘অনুষ্ঠানের আয়োজন না থাকায় জীবিকার অনিশ্চয়তায় আছেন কমিউনিটি সেন্টার সংশ্লিষ্টরা। যারা ফটোগ্রাফি, সাজসজ্জা ও লজিস্টিক সেবা দেন, ফুল সরবরাহ করেন, বোর্ড মিস্ত্রি, ডেকোরেশন ও ক্লিনিংসহ বিভিন্ন কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতেন, তারা সবাই এখন বেকার। মহা বিপাকে পড়েছেন কমিউনিটি সেন্টার ব্যবসায়ীরা। বছর জুড়ে বুকিং দেওয়া সব ধরনের অনুষ্ঠান বাতিল করা হয়েছে। বিপুল পরিমাণ এ ক্ষতির বোঝা সামলে ব্যবসায়ীদের ঘুরে দাঁড়ানোটা প্রায় অসম্ভব ও চ্যালেঞ্জিং।’

জাকির হোসেন জানান, রাজধানীতে সরকারি-বেসরকারি কমিউনিটি সেন্টার ও কনভেনশন সেন্টারের সংখ্যা প্রায় ৪০০। সারা দেশে এ ধরনের প্রতিষ্ঠান আছে প্রায় ৪ হাজার। গড়ে ৫০ জন করে স্থায়ী কর্মচারী ধরলে দেশে প্রায় ২ লাখ মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা আছে এসব সেন্টারে।

কমিউনিটি সেন্টার খোলার দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, ‘কমিউনিটি সেন্টারগুলো বন্ধ থাকার পরও ঘরভাড়া, ইনকাম ট্যাক্স, হোল্ডিং ট্যাক্স, ভ্যাট, কর্মচারীর বেতন, বিদ্যুৎ বিল, ওয়াসা বিল, গ্যাস বিল ইত্যাদি পরিশোধ করতে হচ্ছে। একেকটি কমিউনিটি সেন্টার কমপক্ষে ৫ হাজার থেকে ৩০ হাজার বর্গফুট জায়গা নিয়ে স্থাপিত। যেখানে স্বাস্থ্যবিধি মেনে ১০০ থেকে ২০০ লোকের অনুষ্ঠান করা মোটেই অসম্ভব নয়। একটি হোটেলে ১-২ হাজার বর্গফুট জায়গার মধ্যে যেখানে ১০০ থেকে ২০০ লোকের খাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়, সেখানে একটি কমিউনিটি সেন্টারের বিশাল ও সুপরিসর জায়গায় ১০০ বা ২০০ লোকের খাওয়ার ব্যবস্থা করা আরও সহজ ও স্বাস্থ্যসম্মত। তাই মানবিক কারণে সরকারি স্বাস্থ্যবিধি মেনে স্বল্প পরিসরে অনুষ্ঠান করার সুযোগ দেওয়ার জন্য বিনীত অনুরোধ করছি।’

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন বিসিসিএর সাধারণ সম্পাদক মনির হোসেন, চট্টগ্রাম কমিউনিটি সেন্টার মালিক সমিতির সভাপতি হাজী মো. সাহাব উদ্দিন প্রমুখ।

ট্যাগ :