বাংলাদেশ, শুক্রবার, ১৪ মে ২০২১

শিরোনাম

সার্ভেয়ারের বিরুদ্ধে মিথ্যা প্রতিবেদন দেওয়ার ভয় দেখিয়ে ১২ লাখ টাকা দাবির অভিযোগ:


প্রকাশের সময় :১৪ এপ্রিল, ২০২১ ৯:১৩ : অপরাহ্ণ

নগরীর ভূমি অফিস চান্দগাঁও সার্কেলের সার্ভেয়ার নাজমুল হাসানের বিরুদ্ধে মিথ্যা প্রতিবেদন দেওয়ার ভয় দেখিয়ে ১২ লাখ টাকা ঘুষ দাবির অভিযোগ উঠেছে। সার্ভেয়ার নাজমুলের বিরুদ্ধে এসিল্যন্ডের নাম ভাঙিয়ে এবং জায়গা-জমিসংক্রান্ত কোর্ট প্রতিবেদন, মতামত, যে কোনো সমস্যায় মানুষকে ফাঁদে পেলে মোটা অংকের ঘুষ দাবি, ঘুষ না পেলে ইচ্ছামতো মনগড়া দখল প্রতিবেদন দেওয়াসহ লাখ লাখ টাকার ঘুষ বাণিজ্য, অনিয়ম, দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়ার অভিযোগ উঠেছে। উক্ত সার্ভেয়ার নাজমুল হাসানের নামে-বেনামে কয়েক কোটি টাকার অবৈধ সম্পদের তথ্যও পাওয়া গেছে।

জানা গেছে, চট্টগ্রাম ভূমি অফিস চান্দগাঁও সার্কেলের সার্ভেয়ার নাজমুল হাসান ভূমি অফিসে আসা লোকজনকে জিম্মি করে সহকারী কমিশনারের (ভূমি) নাম ভাঙিয়ে বিভিন্নজনের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেন।

নগরীর পাঁচলাইশ থানার পশ্চিম ষোলশহরস্থ বিবিরহাট এলাকার মৃত ইউসুফের ছেলে মো. জসিম, মো, কাউসার, মো. নাঈমের বিরুদ্ধে জায়গা-জমিসংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে রাউজান উপজেলার নোয়াপাড়া এলাকার জোহরা বেগম (৪০), মো. জাহেদ (১৮)-গং এডিএম কোর্ট (মহানগর) চট্টগ্রামে ২০১৮ সালের ১৬ আগস্ট মামলা দায়ের করেন। আদালত মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দেয়ার নির্দেশ দেয়। ২০২০ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি সার্ভেয়ার নাজমুল হাসান ও তৎকালীন চান্দগাঁও সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ ফোরকান এলাহী অনুপম সরেজমিন তদন্ত করে একটি প্রতিবেদন দেন।

এর আগে আদালতের নির্দেশে পাঁচলাইশ মডেল থানার তৎকালীন এসআই নুরুল আলম মিয়া ২০১৯ সালের ১১ মার্চ উভয়পক্ষের কাগজপত্র পর্যালোচনা করে সরেজমিন তদন্তের পরিপ্রেক্ষিতে একটি নিরপেক্ষ বাস্তবসম্মত প্রতিবেদন দেন। কিছূদিন পর গত ২২ মার্চ একই সার্ভেয়ার নাজমুল হাসান সহকারী কমিশনার (ভূমি) মামনুন আহমেদ অনীক আগের প্রতিবেদনের বিপরীতে আরেকটি প্রতিবেদন দেন। ওই প্রতিবেদন দেয়ার আগে সার্ভেয়ার নাজমূল হাসান ১২ লাখ টাকা ঘুষ দাবি করেন। প্রতিবেদন পক্ষে দিতে হলে এসিল্যান্ড এবং অফিসের লোকজনকে দিতে ১২ লাখ টাকা দাবি করেন।
ওই জায়াগার বিষয়ে চট্টগ্রাম জজকোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট রামপ্রসাদ ভট্টাচার্য্য উভয়পক্ষের কাগজপত্র পর্যালোচনা করে জসীম উদ্দীনদের পক্ষে গত ৫ জানুয়ারি আইনগত মতামত দেন। এছাড়াও রাউজান উপজেলার নোয়াপাড়া ইউপি চেয়ারম্যানের কাছ থেকে ২০১৮ সালে আইয়ুব আলীর পরিবারের তথ্য গোপন করে ওয়ারিশন সনদ নেন। ওই সনদে পরিবারের ৭ সদস্যদের মধ্যে প্রথম স্ত্রী লাকী আকতারের তথ্য গোপন করায় গত ১২ জানুয়ারি আগের ওয়ারিশ সনদ বাতিল করে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান দিদারুল আলম আরেকটি সনদ দেন।

এ বিষয়ে জসীম উদ্দীন জানান, উক্ত জায়গা আমার পক্ষে প্রতিবেদন দিতে হলে নাকি ১২ লাখ টাকা লাগবে বলে দাবি করেন সার্ভেয়ার নাজমুল হাসান। টাকা না পেলে নাকি এসিল্যান্ড স্বাক্ষর করেন না। বিভিন্ন মানুষ দিয়ে এবং সার্ভেয়ার সরাসরি একাধিকবার উক্ত টাকা দাবি করেন। শেষ পর্যন্ত টাকা না পেলে আমার বিরুদ্ধে রির্পোট দেয়ার হুমকি দেন।

এ বিষয়ে জানার জন্য চান্দগাঁও ভূমি অফিসের সার্ভেয়ার নাজমুল হাসানের সাথে যোগাযোগ করা হলে এসিল্যান্ডের নাম ভাঙিয়ে ১২ লাখ টাকা ঘুষ দাবির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কোন এবং মামলার বাদী বিবাদী কে জানতে চান। এ বিষয়টি নিয়ে কোনো মন্তব্য না করে লাইন কেটে দেন।

এ বিষয়ে চান্দগাঁও সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) মামনুন আহমেদ অনীকের সাথে টেলিফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
এদিকে সার্ভেয়ার নাজমুল হাসানের বিরুদ্ধে নগরীর চান্দগাঁও এয়াকুব চেয়ারম্যানের বাড়ি এলাকায় পুকুরসহ খালি জায়গাকে ভবন উল্লেখ করে মিথ্যা প্রতিবেদন দেয়ার ঘটনায় চাঞ্চল্যকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। উক্ত প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে আপত্তি জানিয়েছেন স্থানীয় মৃত কামাল উদ্দীনের ছেলে সালাহউদ্দীন, গিয়াস উদ্দীন, মোঃ জামাল উদ্দীন।

 

ট্যাগ :